ইবি সংবাদদাতা।। মেস ভাড়া মওকুফের উদ্যোগ নিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন সংসদ। বৃহস্পতিবার ছাত্র ইউনিয়ন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি নূরুন্নবী ইসলাম সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক জি. কে. সাদিক এক যৌথ সংবাদ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) বিপর্যয়ের ফলে গত ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে লকডাউন চলমান রয়েছে। সেই সাথে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ রয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ মার্চ থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোও বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত রয়েছে। এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ২২ শতাংশের মতো শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। বাকি প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী এলাকা, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ শহরে বাসা/ মেসে থাকে। বাসা/ মেসে অবস্থানকারী এই শিক্ষার্থীদের বড় অংশ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের। যারা টিউশন বা পার্ট টাইম জব করে নিজের পড়ালেখার খরচ চালায়। বর্তমানে টিউশন বা অন্য যে সকল উপার্জনের মাধ্যম রয়েছে তা বন্ধ থাকায় তারা নিজেরাই পরিবার নিয়ে চলতে পারছে না।
এদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে। এমতাবস্থায় এই শিক্ষার্থীদের পক্ষে লকডাউন কালীন বাসা/ মেস ভাড়া দেয়া সম্ভব নয়। আমরা ইতোমধ্যে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে অবগত হয়েছি যে, ক্যাম্পাসের পার্শ¦বর্তী এলাকা, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ শহরের বাসা/ মেস মালিকগণ শিক্ষার্থীদের ভাড়া পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছেন।
আমরা বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ মনে করি দেশের এই সংকটময় মূহুর্তে ইবি প্রশাসন কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে বাসা/ মেস মালিকদের সাথে আলোচনা করে লকডাউন কালীন ভাড়া মওকুফ করাতে উদ্যোগী হবেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘আমাদের দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বড় অংশই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের। যারা মূলত টিউশন বা পার্ট টাইম জব করে নিজের খরচ চালায় এবং অনেক শিক্ষার্থী পরিবারকেও সাহায্য করে। চলমান লকডাউন পরিস্থিতির কারণে এই শিক্ষার্থীরাও উপার্জনহীন তাদের পরিবারেরও উপার্জন বন্ধ। ফলে অনেক শিক্ষার্থীর পরিবার মানবেতর দিন পার করছে।’
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ‘এমতাবস্থায় বাসা/ মেস ভাড়া দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান রাখছি কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে বাসা/ মেস মালিকদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে লকডাউন কালীন বাসা/ মেস ভাড়া মওকুফ করাতে উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াবেন।’